ভুল মোটরসাইকেল নির্বাচন: আপনার শখ যখন বিপদের কারণ
একজন রাইডারের কাছে তার মোটরসাইকেলটি কেবল একটি যন্ত্র নয়, বরং তার ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক নতুন রাইডার কেবল লুক বা গতির লোভে নিজের শরীরের গঠন ও প্রয়োজনের সাথে অমিল থাকা বাইক কিনে ফেলেন। এই একটি ভুল সিদ্ধান্ত আপনার রাইডিং জীবনকে আনন্দদায়ক করার বদলে যন্ত্রণাদায়ক করে তুলতে পারে।
১. ভারসাম্যহীনতা ও নিয়ন্ত্রণ হারানো

মোটরসাইকেলের সিটের উচ্চতা (Seat Height) যদি আপনার উচ্চতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে জ্যামে বা সিগন্যালে পা মাটিতে পেতে সমস্যা হবে। বাংলাদেশের উঁচু-নিচু বা ভাঙা রাস্তায় দুই পা শক্তভাবে মাটিতে না রাখতে পারলে ভারী বাইক নিয়ে পড়ে যাওয়া বা ‘টিপ-ওভার’ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।
২. রাইডিং ট্রায়াঙ্গেল ও দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যা
প্রতিটি বাইকের হ্যান্ডেলবার, সিট এবং ফুটপেগের একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব থাকে যাকে ‘রাইডিং ট্রায়াঙ্গেল’ বলে।
- আপনার হাতের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী হ্যান্ডেলবার বেশি দূরে হলে কবজি ও কাঁধে ব্যথা হবে।
- পায়ের পজিশন সঠিক না হলে হাঁটুতে সমস্যা দেখা দেবে। প্রয়োজন না বুঝে এগ্রেসিভ স্পোর্টস বাইক কিনলে দীর্ঘমেয়াদে আপনি মেরুদণ্ডের ব্যথায় (Back Pain) আক্রান্ত হতে পারেন।
৩. ‘ম্যানুভারেবিলিটি’ বা বাইক সামলানোর ক্ষমতা
আপনার শারীরিক শক্তির তুলনায় বাইকটি বেশি ভারী হলে পার্কিং থেকে বের করা বা জ্যামে ঠেলে নেওয়া আপনার জন্য যুদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে ইমারজেন্সি সিচুয়েশনে বাইক ঝটপট ঘুরিয়ে নেওয়া বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না, যা বড় ধরণের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
৪. মানসিক অবসাদ ও কনফিডেন্স কমে যাওয়া
যখন একজন রাইডার বুঝতে পারেন যে তিনি বাইকটি পুরোপুরি কন্ট্রোল করতে পারছেন না, তখন তার আত্মবিশ্বাস কমে যায়। এই ভয়ের কারণে রাইডার রাস্তায় প্যানিক করেন এবং ভুল সময়ে ব্রেক বা ভুল লেন বেছে নেন। শখের রাইডিং তখন উপভোগের বদলে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৫. পারপাস মিসম্যাচ (Purpose Mismatch)
আপনি যদি মূলত শহরের জ্যামে অফিস যাওয়ার জন্য বাইক কেনেন, কিন্তু পছন্দ করে বসলেন একটি হাই-সিসি অফ-রোড বা স্পোর্টস বাইক—তবে এটি আপনার জন্য আর্থিক এবং শারীরিক উভয় দিক থেকেই লস। অতিরিক্ত হিট জেনারেট হওয়া এবং লো-মাইলেজ আপনার পকেট ও মেজাজ দুটোই নষ্ট করবে।
স্মার্ট রাইডারদের জন্য পরামর্শ: বাইক কেনার আগে শোরুমে বসে দেখুন, সম্ভব হলে টেস্ট রাইড দিন। আপনার শরীর বাইকের সাথে ‘সিংক্রোনাইজ’ হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত হয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন।
